• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই’র মাহফিল আমীন আমীন ধ্বনীতে মুখরিত কীর্তণখোলা নদীর তীর

মুহাঃ আশরাফুল ইসলাম খুলনা সদর প্রতিনিধি / ৪৭ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক (ফাল্গুনের) মাহফিল।
গত ১ এপ্রিল’ বুধবার বাদ জোহর মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়ে আজ ০৪ এপ্রিল’ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক এ মিলনমেলা।
সকাল (৪ এপ্রিল) সাড়ে ৮ টায় আখেরী পরিচালনা করেন পীর সাহেব চরমোনাই মোনাজাতে অংশ নেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লী তাদের আমীন আমীন ধনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীর।
আখেরি মোনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবানন সহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের অবসান ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত চরমোনাই মুরিদানদের মধ্য হতে মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
মোনাজাতের পুর্বে সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব বলেন চরমোনাই মাহফিল দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে নয়, বরং পথভোলা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ মাহফিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে অহরহ। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই সে আলেম, মুফতি ও পীর হলেও আল্লার নিকট তার কোনো মূল্য নেই। তিনি বলেন নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরি পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ পরিত্যাগ করতে হবে। ঘোড়ার মুখের ন্যায় রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হবে। গিবতের মতো গুনাহ থেকে বাঁচিয়া থাকতে হবে। পরিবারের সবাইকে দীন শিক্ষা দিয়ে দীনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাছ পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্য হতে বাঁচিয়া থাকতে হবে। আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়তে হবে। সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। সহিহ শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে।

সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মোবারকবাদ জানান তিনি।
আখেরি মোনাজাতের পুর্বে পীর সাহেব চরমোনাই বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তিনি মুরিদানদের সঠিক পথে পরিচালিত হবার বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাওবা করিয়ে গুনাহ থেকে বাঁচিয়া থাকার শপথ করান।
এবছর মাহফিলে মূল ৭টি বয়ানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন দেশবরেণ্য বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরাম ও পীর মাশায়েখগণ মূল্যবান বয়ান পেশ করেন।

উল্লেখ্য, মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে ২ জন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন, কাটালিয়া, মাধবদী, নরসিংদী নিবাসী এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং ভুয়াপুর টাঙ্গাইল নিবাসী মো.তালহা (২২)। উভয়ের জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।চরমোনাই অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতালে এবছর প্রায় ২ সহস্রাধিক মুসল্লীর চিকিৎসা দেয়া হয়। এবারের মাহফিলে ২ জন অমুসলিম পীরসাহেব চরমোনাই ও শায়খে চরমোনাইর হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
চরমোনাইর ঐতিহাসিক মাহফিল সফল করায় খুলনাবাসী কে ধন্যবাদ জানিয়েছেনইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি- মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান সহ সভাপতি – হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব ,মাওলানা আবু সাঈদ, সেক্রেটারি এস এম রেজাউল করিম সরদার,জয়েন্ট সেক্রেটারি আল: মোঃ শফিকুল ইসলাম,মাওঃ হারুনুর রশিদ , মোঃ মুহিব্বুল্লাহ হাফেজ মাওলানা মুফতি আশরাফুল ইসলাম ,মুফতি এনামুল হাসান সাঈদ , মাস্টার জাফর সাদেক,মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল ,মাওঃ আসাদুল্লাহ হামিদী,মাওঃ মাহবুবুল আলম ,মোঃ নুরুল হুদা সাজু ,মোঃ লিয়াকত আলী ,মোঃ ইউসুফ আলী আল: মোঃ আবু দউদ ,মোঃ আবু রায়হান মাওলানা মোঃ ওমর আলী,মাওঃ আব্দুল্ মালেক মুফতি ফয়জুল্লাহ,মাওঃ আহমাদ আলী, হাফেজ মোহাঃ কারিমুল ইসলাম হাফেজ জাহিদুল ইসলাম ,মোঃ ওলিয়ার রহমান আলী ,মোঃ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..