খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের কামিনী পাড়ায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ‘বৈসু’ উপলক্ষে বিভিন্ন খেলাধুলার সমাপনী, পুরস্কার বিতরণ এবং ‘এমাং লাইব্রেরি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে কামিনী পাড়া এমাং লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য ও সিএইচটি নারী হেডম্যান কার্বারী নেটওয়ার্কের সভাপতি জয়া ত্রিপুরা। এমাং লাইব্রেরি ও কামিনী পাড়া যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি দহেন বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নবলেশ্বর ত্রিপুরা (লায়ন), শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জয় প্রকাশ ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি খঞ্জন জ্যোতি ত্রিপুরা, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিটিকেএস পেরাছড়া পূর্ব আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল ত্রিপুরা, ৪ মাইল যৌথ খামারের কার্বারী বিকাশ চন্দ্র ত্রিপুরা, লাইব্রেরির ভূমিদাতা অজিত মোহন ত্রিপুরা, নয় মাইল ত্রিপুরা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা, কামিনী পাড়ার কার্বারী বিপ্লব ভূষণ ত্রিপুরা এবং শিব মন্দিরের পুরোহিত নর ভূষণ ত্রিপুরাসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা সমাপনী খেলাধুলায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় ছিল ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী সুকৈ খেলা, মহিলাদের বালিশ-চেয়ার খেলা এবং হাড়ি ভাঙা। সাহিত্য প্রতিযোগিতায় ছিল কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা এবং গল্প বলা প্রতিযোগিতা।
এরপর নবনির্মিত এমাং লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, একটি আলোকিত সমাজ গঠনে পাঠাগারের কোনো বিকল্প নেই এবং উপস্থিত সকলকে লাইব্রেরি উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে কাজ সম্পন্ন হলে এখানে নিয়মিত আলোচনা সভা, টকশো, পাঠচক্র ও জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। বক্তারা অসমাপ্ত নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ লাইব্রেরি ভবিষ্যতে এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সচেতনতা বিকাশের কেন্দ্রে পরিণত হবে।
পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।