“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত—আসবে এবার নবপ্রভাত” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস ২০২৬। আজ ১ মে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে র্যালি নিয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে টাউন হল থেকে সকল সংগঠনের অংশগ্রহণে একটি বিশাল যৌথ র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হলে এসে শেষ হয়। এ সময় পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবির বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হতে থাকে।
র্যালিতে অংশ নেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, খাগড়াছড়ি জেলা চালক সমবায় সমিতি ও সহযোগী সমিতি, সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন (খাগড়াছড়ি), মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক ও জনপদ শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমযান কল্যাণ সমিতি (সিএনজি) এবং ইজিবাইক মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমিক শ্রেণি। তাদের ঘাম ও পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো ও শিল্পখাত। অথচ অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হন। তাই শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মে দিবসের এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। তারা বলেন, “সুস্থ শ্রমিকই উৎপাদনের মূল শক্তি, আর কর্মঠ হাতই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে।”
অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়—একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও শ্রমিকবান্ধব সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় তারা আবারও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।