• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

বারখাইন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, ক্যাজুয়েল কর্মীদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: / ৩৫ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তিলক শীলের বিরুদ্ধে অফিসের ক্যাজুয়েল কর্মী নয়ন ও আইমনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগ রয়েছে, নামজারির ফাইলের প্রস্তাব পাঠাতে প্রতিটি ফাইলে সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। ঘুষ না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ৭০ টাকা আবেদন ফি এবং ১১৭০ টাকা ডিসিআর ফি জমা দিয়ে নামজারির খতিয়ান পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন আবেদনকারীকে বিভিন্ন ধাপে ১০ হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। প্রস্তাব পাঠানো, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও ডিসিআরসহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনলাইনে আবেদন ও দলিলের স্ক্যান কপি জমা দেওয়ার পরও আবেদনকারীদের বারবার অফিসে ডেকে এনে মূল দলিল দেখাতে বলা হয়। কখনও কাগজে সমস্যা আছে—এমন অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। অথচ ঘুষ দিলে একই দিনের ফাইল দ্রুত প্রস্তাব আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “নাম প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে আমাদের কাজ হবে না। বাস্তবে ১১৭০ টাকার নামজারি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না।”
একজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, গত ২৩ তারিখে তিনি দুইটি ফাইল জমা দিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও আরও বেশি টাকার দাবিতে ১৫ দিনেও তার ফাইলের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিবেদক নিজেই গ্রাহক সেজে দুইটি ফাইল নিয়ে অফিসে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তিলক শীল ফাইল ও টাকা ক্যাজুয়েল কর্মী নয়নের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলেন। পরে নয়নের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, তিনি আলাদা রুমে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বসে কাজ পরিচালনা করছেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে তার অশোভন আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে আইমন নামের অপর এক ক্যাজুয়েল কর্মী অফিসের কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে পুরো ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তাদের ভাষ্য, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না।
স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, তিলক শীল, নয়ন ও আইমন দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক বনে গেছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতি মাসে অন্তত ৫০টি নামজারির ফাইল প্রস্তাব আকারে পাঠানো হলে শুধুমাত্র সর্বনিম্ন হিসাবেই মাসে প্রায় ১ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হতে পারে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তিলক শীলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বড় প্রস্তাব হলে একটু সময় লাগে এবং খরচও কিছুটা বাড়ে। কিছু খরচের টাকা এসে দিয়ে যান, আমি পাঠিয়ে দেব।”
পরে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনার কাজ হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে আনোয়ারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..