পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুমাত্রিক প্রতিভাধর লেখক, কবি, গীতিকার, সুরকার, ভাষা গবেষক ও উন্নয়নকর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার ১৮তম গল্পগ্রন্থ ‘অরণ্যকথা’র মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া ১৭টি জীবন্ত গল্প নিয়ে সাজানো এই গ্রন্থটি মুদ্রণ ও প্রকাশ করেছে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।
শনিবার (৯ মে) বিকালে ইনস্টিটিউটের হলরুমে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তিন পার্বত্য জেলার কবি, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা লাভ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মংয়ের সভাপতিত্বে এবং মাইসছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ অভিধা চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি, লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা, মৃত্তিকা চাকমা, অংসুই মারমা, আর্য্যমিত্র চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক কীর্তি চাকমা এবং বান্দরবান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক বিপন চাকমা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কবি ও লেখক অংসুই মারমা তিন পার্বত্য জেলার নবীন-প্রবীণ লেখকদের গল্প নিয়ে একটি যৌথ গল্প সংকলন প্রকাশের দাবি উত্থাপন করেন। এ দাবির প্রেক্ষিতে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
‘অরণ্যকথা’ গ্রন্থে সংকলিত ১৭টি গল্প হলো— রক্তঝরা জঙ্গলের দিন, তুয়ারি মাইরাং-এর বনমানুষ রহস্য, আলপালানির নিষিদ্ধ দুপুর, তুয়ারি মাইরাং-এর ডাক, অভিশপ্ত শনিবার, অমাবশ্যা রাত বনাম একমুঠো ভাত, নিরুদ্দেশের জলছবি, রাজকুমারের আত্মপরিচয়, ফাইলাইফাং ল্যাব, ধমনিতে নদীর স্রোত, ভ্রমণে বিভ্রমে তিন বন্ধু, গহীন অরণ্যে অমাবশ্যা, রক্তাক্ত গুহা রহস্য, অরণ্যের প্রত্যুত্তর, খাগড়াছড়ি টু ঢাকা, কাতনের পথে হাজাপাড়ার পঞ্চপাণ্ডব এবং রাইকাচাক।
লেখক পরিচিতি:
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার পিতা বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও মাতা সবিতা রাণী ত্রিপুরা। পেশায় একজন উন্নয়নকর্মী মথুরা বিকাশ লেখেন নিজ মাতৃভাষা ককবরক, বাংলা ও ইংরেজিতে। এককভাবে ১৭টি এবং যৌথভাবে ৭০টির অধিক বই, শিখন উপকরণ, শিশুতোষ গল্পের বই ও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছেন তিনি। এছাড়া এককভাবে ২০টি এবং যৌথভাবে ১৫টির অধিক সাহিত্য সংকলন, উন্নয়ন জার্নাল ও সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।
শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও ভাষা গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গিরিধারা সাহিত্য সম্মাননা ২০২৫, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক ২০২১, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গবেষণা সম্মাননা ২০২০, পার্বত্য বৌদ্ধ এসোসিয়েশন ভাষা সম্মাননা ২০১৮ ও আলটুইস্টিক শিক্ষা সম্মাননা ২০১৭-সহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পেশা ও সাহিত্যকর্মের সূত্রে তিনি ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।