• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
হেডলাইন :
বাঘাইছড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এমপি জসিম উদ্দিন ও সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বোয়ালমারীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ; ১৬ জনের নামে মামলা আত্রাইয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয় সভা ও ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত নড়াইলে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ, নিহত ২ জুড়ীতে পোষা হাতির মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জুড়ীতে পোষা হাতির মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গোমতী ইউনিয়নে চুরির মহামারি: মসজিদ-মাদ্রাসাও রক্ষা পাচ্ছে না, বিচারহীনতায় বাড়ছে আতঙ্ক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি / ৩৭ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে চোরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সাত ভাইয়া পাড়া, আয়াত আলী পাড়া এবং তৈয়ব মেম্বার ও জাফর মেম্বার পাড়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র সিঁধ কেটে ও বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল লুটে নিচ্ছে। এতে স্থানীয় জনজীবনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোরেরা গভীর রাতে মাটির ঘরের দেয়াল খুঁড়ে বা বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করছে। তাদের প্রধান টার্গেট সোলার প্যানেল, ছোট-বড় দামী সোলার ব্যাটারি, স্বর্ণালঙ্কার এবং ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র। শুধু বসতবাড়িই নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও চোরচক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গতকাল রাতে আয়াত আলী পাড়ার মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে ৬০ এম্পিয়ারের ভলবো সোলার ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া টিউবওয়েলের মাথা ও পানি তোলার মোটর চুরির ঘটনাও এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চোরেরা স্থানীয়ভাবে শনাক্ত হলেও ধরা পড়ার পর সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজন হওয়ায় ‘আত্মীয়তার’ দোহাই দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে গোমতী বাজারে একটি চুরিকৃত ব্যাটারি বিক্রির সময় এক চোর ধরা পড়লেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।

স্থানীয়দের দাবি, চোরাই মালামাল বিক্রির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পুরাতন মালের দোকানগুলো। তাই পুরাতন ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় যাচাই ও নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, চোর যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..