দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতির সংস্কৃতি ভেঙে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার গুচ্ছগ্রামগুলোর রেশন বিতরণ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। খাবার অযোগ্য ও নিম্নমানের পঁচা আতপ চালের পরিবর্তে বিতরণ করা হচ্ছে সিদ্ধ চাল। সিদ্ধ চাল বিতরণের ফলে গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার ২৩টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় দশ হাজার রেশন কার্ডধারী পরিবার রয়েছে। যাদের জীবিকা অনেকাংশেই নির্ভর করে সরকারি এ খাদ্য সহায়তার ওপর। একসময় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতি কার্ডে নিয়মিত ৮৬ কেজি উন্নতমানের সিদ্ধ চাল বিতরণ করা হলেও ২০০৯ সালের পর ধীরে ধীরে এ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের পাশাপাশি সিদ্ধ চালের পরিবর্তে বিতরণ করা হয় খাবার অযোগ্য পঁচা ও নিম্নমানের আতপ চাল।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সিদ্ধ চালের পরিবর্তে নিম্নমানের আতপ চাল সরবরাহ, ওজনে কম দেওয়া, চালের পরিবর্তে গম বিতরণ করা হতো। আর সবকিছুরই নিয়ন্ত্রন হতো অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এ নিয়ে গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীদের মধ্য ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেশনকার্ডধারীরা মুখ খুলতে শুরু করে। রেশকার্ডধারীদের প্রতিবাদ ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পড়ে।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার প্রচেষ্ঠায় দীর্ঘ বছরে গড়ে উঠা রীতি ভেঙ্গে
খাগড়াছড়ি ৮৬টি গুচ্ছগ্রামে নিম্নমানের আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার ২৩টি গুচ্ছগ্রামে কার্ডধারী পরিবারের মাঝে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। উন্নতমানের সিদ্ধ চাল সরবরাহ করায় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে উপকারভোগী কার্ডধারীরা।
খেদাছড়া গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী মো. মফিজুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে খাবার অযোগ্য পঁচা ও নিম্নমানের আতপ চাল বিতরণ করা হতো। যা আমরা কখনোই খেতে পারিনি। এবার আমাদের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আমাদেরকে উন্নতমানের সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। ধলিয়া গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী আয়েশা বেগম বলেন, সরকার আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে এজন্য আমরা দুমূঠো ভাত খেতে পারবো।
মাটিরাঙ্গার নিশা-২ গুচ্ছগ্রামের বিতরনকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, আগে গুচ্ছগ্রামগুলোতে বিতরনের জন্য আতপ চাল সরবরাহ করা হলেও এবার মাননীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উন্নতমানের সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরাও তা কার্ডধারীদের মাঝে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে বিতরণ করছি।
জাকির হোসেন নামে এক কার্ডধারী বলেন, এমপি মহোদয়ের আন্তরিকতায় রেশন বিতরণে পরিবর্তন এসেছে। যেখানে আগে নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হতো, সেখানে এখন উন্নতমানের সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওজনেও আগের চেয়ে অনেকটা স্বচ্ছতা এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগে রেশন বিতরণে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের সমন্বয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তারা বলেন, এই পরিবর্তন ধরে রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরী।