• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
হেডলাইন :
কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত নড়াইলে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ, নিহত ২ জুড়ীতে পোষা হাতির মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জুড়ীতে পোষা হাতির মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে রায়পুরায় খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের শিগগিরই উদ্বোধন হবে-ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি সুন্দরবনে জোংড়া খাল এলাকায় বন বিভাগের অভিযান ৪টি নৌকা ও শুটকি তৈরির সরঞ্জাম জব্দ নাসিমা হত্যাকান্ডে গ্রেফতার তান্ত্রিক শামসুল হক ‎বরিশালে MEP গ্রুপের বিভাগীয় বিক্রয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবানের থানচি রেমাক্রীতে ডায়রিয়া বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ আসছে না ঔষধ স্যালাইন অভাবে দুর্ভোগে রোগীরা

উশৈনু মারমা, থানচি প্রতিনিধি:- / ৫৩ দেখেছেন
আপলোড : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে তিনটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় কলেরা স্যালাইন, ঔষুধ ও চিকিৎসকের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলের বাইরে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আক্রান্তদের পবিত্র ঈদুল- ঊল-আযহার পূর্বে বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের টিম চিকিৎসা সেবা দিলে ও এখন ও নিয়ন্ত্রণের আসছে না।

 

রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ইউপি মেম্বার হ্লাথোয়াইপ্রু মারাম জানান, গত ২২ মে হতে এ পর্যন্ত এলাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিজিবি,স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিতসকরা সেবা দিলে ও অর্ধশতাধিক আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছে কিন্তু ঈদের পর ও আক্রান্তদের অধিকাংশই পানিশূন্যতায় ভুগলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন ও আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন) না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর কিংবা জেলা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে ফার্মেসিগুলোতে কলেরা স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষুধের অভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে অপরাগতা দেখা দিয়েছে। আক্রান্তরা চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড মেম্বার উমাচিং মারমা বলেন, বর্তমানের আমার ওয়ার্ডে গ্রোপিং পাড়া ১০ হতে ১২জন, আদা ম্রো পাড়া ৭ হতে ৮জন, রেমাক্রী বাজারে ৫ হতে ৬ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তারা সবাই নিত্যান্ত গরীব চিকিৎসা জন্য উপজেলা সদরে যাওয়ার সম্ভব নয়। ২৮ মে ঈদের দিন ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি কিন্তু কোন চিকিৎসক আসছে না। ইউনিয়ন স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের ও কোন চিকিৎসক বা ঔষধ ও নেই।

রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিশু ও বয়স্কদের জন্য তা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আক্রান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ঔষুধ এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটিকালেও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ঔষুধ, আইভি ফ্লুইড এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল।

বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা জোরদার না করা হলে ডায়রিয়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম শহরে ঈদের আগেই আমাদের টিম ছিল তারা বলছেন ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের আসছে। ফের বৃদ্ধি পাওয়ার খবর আমাকে কেউ বলেন নি। গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইনসহ মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা দ্রুত মেডিকেল টিম ও অস্থায়ী স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প স্থাপন ও পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..