মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পোষা হাতির মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পোষা হাতির মালিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৯টায় জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পোষা হাতি শুধু একটি প্রাণী নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের একটি জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই হাতির মালিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাতি মালিক সমিতির সভাপতি ও কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ পোষা হাতি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমান আইন ও নীতিমালার কারণে হাতির মালিকরা নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মঈন উদ্দিন মইজন। তিনি বলেন, হাতি পালনকারীদের বাস্তবতা ও জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাতি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ, মনির মিয়া, ওয়াসির উদ্দিন কয়ছরসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান আইন ও নীতিমালার আওতায় পোষা হাতি লালন-পালন, নিবন্ধন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে হাতির মালিকরা আর্থিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে হাতি পালনকারী পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালের নীতিমালার আলোকে হাতি পালন কার্যক্রম পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে সহজ ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। তাই বর্তমান আইন ও নীতিমালা সংশোধন করে পূর্বের নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পুনর্বহাল করার দাবি জানান তারা।
সভা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি পোষা হাতির মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। আগে ছিল হাতির কাজের ধরণ বৈধভাবে কর্তিত গাছ অপসারণ ও স্থানান্তর করা বিয়ে সার্কাস সহ ইত্যাদি প্রদর্শন বর্তমানে করা জন্য দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে হাতি সংরক্ষণ,মালিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
সভা শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পোষা হাতি সংরক্ষণ ও হাতির মালিকদের স্বার্থরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।