• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

অবশেষে রাতের আঁধারে লালমনিরহাট সিমান্তের পুশ ইনের জন্য আনা ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হল বিএসএফ

মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা : / ২০ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

অবশেষে লালমনিরহাট সিমান্তে পুশ ইন করতে আনা সেই ভারতীয় নাগরিকদের রাতের আঁধারে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত শুক্রবার(৫জুন) লালমনিরহাট জেলার তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতের আঁধারে পুশইন করা ব্যক্তিদের গোপনে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

বিজিবি ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে , শনিবার (০৬ জুন) আনুমানিক ভোর ৬ ঘটিকায় পয়ষট্টিবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার ৮৪৬/১ এস নিকটবর্তী ভারতীয় পানিশালা ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানেরা গতকাল শুক্রবার সিমান্তের ওপারে পুশ ইন করতে আনা সেই ১০জন জন ভারতীয় নাগরিককে সিমান্তের কাটাতারের গেইট সদস্য তারকাঁটার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে পিকআপ যোগে নিয়ে যায়।

এছাড়া গতকাল শুক্রবার ( ০৫ জুন) রাত ৮টা ৩৫মিনিট হতেে ৮টা ৪৫ মিনিট সময়ের মধ্যে জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার ৮৮৬ বরাবর পুশইন করা নাগরিকদের ১৫৭ভারতীয় বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্প এলাকার সিমান্তে অবস্থানরত ১২জন ভারতীয় নাগরিককে ভারতের তারকাঁটার অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি ৬১ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম এর পক্ষ হতে বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে গতকাল পুষইনকৃত সিমান্ত এলাকায় সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি টহলদল সীমান্ত এলাকা কঠোর নজরদারিতে রেখেছে ।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার করে।

পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট সীমান্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকশত মানুষ বিজিবির সাথে জোটবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় লাঠি হাতে নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় বিএসএফ রাতের আঁধারে কৌশলে ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সিমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনতার সরব উপস্থিতির কারণে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিএসএফ পুশইন করা ব্যক্তিদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাকের মত কর্মকান্ডে একদিকে যেমন পুশ ইন করতে আনা মানুষজনকে মানবেতর অবস্থায় পরতে হচ্ছে অপরদিকে এতে সিমান্ত এলাকায় দু’দেশের মধ্যে উতপ্তত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সিমান্ত উত্তেজনা নিরসনে দু’দেশের মধ্যকার কুটনৈতিক তৎপরতা ও আলাপ আলোচনা জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..