• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন :
বরিশালে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্রমূলক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত চাঁদ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, মোংলা বন্দরে আলোচনায় বশির উদ্দিন সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত আলেকান্দা সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে সুইপার কলোনি নুনিয়াপট্টি থেকে ১০ জন গ্রেপ্তার, ৯৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার ‎মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৫,৬০০ লিটার অবৈধ সয়াবিন তেল জব্দ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার প্রচার মিথ্যা,শিক্ষক অসীমের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত২০২৬খ্রি:

বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসু একাল-সেকাল: নতুন প্রজন্মের ভাবনা খাগড়াছড়িতে আলোচনা ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত

পপেন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি: / ৮৬ দেখেছেন
আপলোড : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

‘বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসু একাল-সেকাল: নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক একটি আলোচনা ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠান শুক্রবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়নের আয়োজনে এবং খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
উন্নয়নকর্মী জ্ঞানদর্শী চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও লেখক আর্য্যমিত্র চাকমা। তিনি বলেন, “বিজু মানে শুধু খাওয়া-দাওয়া বা আনন্দ-ফুর্তি করা নয়। বিজু মানে শিকড়কে সন্ধান করা।” তিনি আরও বলেন, বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু একালে এবং সেকালে কীভাবে পালিত হতো তার পার্থক্য বোঝা এবং এর গভীরে প্রবেশ করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, বিজু কেবল উৎসব নয়, এটি সংস্কৃতিকে ধারণ করার ও লালন-পালন করার একটি জীবন্ত প্রক্রিয়া।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠীগুলোর বর্ষবরণ উৎসব শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন জীবনদর্শন ও প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। নতুন প্রজন্ম যদি এই উৎসবের আত্মাকে বুঝতে পারে, তাহলেই তাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি টিকে থাকবে।
আদিবাসী লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি অংসুই মারমা বলেন, সাংগ্রাই মারমা জনগোষ্ঠীর কাছে কেবল উৎসব নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক নবায়নের সময়। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিকতার আগ্রাসনে উৎসবের বাহ্যিক রূপ বদলে গেলেও আমাদের উচিত তার মূল চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখা।
খাগড়াছড়ি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য উক্য মং চৌধুরী বলেন, এই ইনস্টিটিউট পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আলোচনা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড় তুলে ধরার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

মাইসছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ অবিদা চাকমা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সংস্কৃতির চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যদি নিজেদের উৎসবের ইতিহাস ও দর্শন সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আগত কলেজ শিক্ষার্থীরা বিজু-বৈসু-সাংগ্রাই উৎসবের অনুভূতি নিয়ে নিজেদের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..