চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় অবস্থিত একটি হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা ও মারামারি সৃষ্টির দায়ে তিন যুবককে জেল-জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ভিড় ছিল। এ সময় তেল সরবরাহের সিরিয়াল বা সরকারি কোনো বিধিনিষেধ অমান্য করাকে কেন্দ্র করে তিন যুবক উপস্থিত অন্যদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা পাম্প চত্বরেই হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। এতে পাম্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়।
আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন:
১. আশরাফুল ইসলাম (২০): চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মানিকদিহি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।
২. মারুফ বিল্লাহ (২০): একই গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের ছেলে।
৩. নাঈম ইসলাম (২৯): চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি মহল্লার বাসিন্দা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী। তিনি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক রায় প্রদান করেন:
কারাদণ্ড: আশরাফুল ইসলাম ও মারুফ বিল্লাহকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় (সরকারি আদেশ অমান্যকরণ) দোষী সাব্যস্ত করে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজা ঘোষণার পর পরই তাদের পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অর্থদণ্ড: চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নাঈম ইসলামকে একই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান,
“সরকারি আদেশ অমান্য করে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। জ্বালানি তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে জেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকি ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
বর্তমানে ওই ফিলিং স্টেশনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।