রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার খরবোনা এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জেরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো এবং তার পরিবারের ওপর হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা মো. শাকিল আহমেদ আলী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিছু মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মাদকবিরোধী সভায় তিনি অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্টদের এ অবৈধ কার্যক্রম থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এর জেরেই অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে নানা ধরনের হুমকি ও অপপ্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শাকিল আহমেদ জানান, গত সোমবার তার ছোট ভাই তুষারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল তাকে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণনাশ করা—এমনটাই দাবি তার। তবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে অভিযুক্তরা পরবর্তীতে আলাদা করে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, “আমি যদি মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকতাম, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে কোনো না কোনো রেকর্ড থাকত। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু নেই।”
শাকিল আহমেদ আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার কৌশল মাত্র।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত পারভেজ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার দাবি, খরবোনা লেক এলাকায় সংঘটিত লুটপাটের ঘটনাসহ একটি হত্যা মামলার সঙ্গেও তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শাকিল আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।