যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে জিয়ার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোলে ৩ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেনাপোল উন্নয়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বেনাপোলের বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বেনাপোল উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মফিজুর রহমান সজন বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে এখনো বঞ্চিত। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তীব্র যানজট, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা এবং যাত্রীসেবার মানের ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
তিনি জানান, বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস থেকে প্রতিবছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করলেও সেই অনুপাতে উন্নয়ন হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
দাবিগুলো হলো-ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ, বেনাপোল স্থলবন্দরে আধুনিক মানের একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া স্থলবন্দর’ রাখা।
তিনি আরও বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরাতন গাছ অপসারণ করা জরুরি, কারণ এসব গাছ যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সজন অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে বন্দরটির কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি বেনাপোল বন্দরের আধুনিকায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি বন্দরে ক্রেন দুর্ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দর এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় আহতদের যশোর শহরে নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্রুত একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারাও বন্দরের দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ঠ সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহা হাবিবুর রহমান হবি প্রমুখ।