রাঙ্গামাটিতে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমতে শুরু করেছে। আগে প্রতিটি পাম্পের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও এখন তা কমে এসেছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি নিতে পারছেন গ্রাহকরা। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনে একযোগে এই কার্যক্রম চালু হয়।ডিজিটাল রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে গ্রাহকদের যাবতীয় তথ্য, পূর্বে কতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে তা জানা সম্ভব হচ্ছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে টোকেন নম্বর সার্ভারে দিলেই সব তথ্য ভেসে উঠছে। এর ফলে একজন গ্রাহক একাধিক পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
গ্রাহকরা জানান, আগে প্রতিটি পাম্পের সামনে দীর্ঘ সারি থাকত। আজ শুরুতে তেমন ভিড় দেখা গেলেও পরে তা কমে এসেছে। ফলে সহজেই আমরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পেরেছি। যেহেতু গ্রাহকদের একাধিকবার জ্বালানি নেয়ার সুযোগ নেই, তাই পূর্বের নির্ধারিত সময়সীমা তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা। গ্রাহকদের মতে, এতে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে না।
মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ট্যাগ অফিসার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক অরুন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজ থেকে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে সফলতাও মিলছে। আগে নির্ধারিত সময়ের পরেও লাইনে অনেক গাড়ি থাকতো। কিন্তু আজ নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই লাইন শেষ হয়ে গেছে। এই পাম্প থেকে কেউ তেল না নিয়ে ফিরে যায়নি। শহরে প্রায় ২ হাজার গ্রাহক রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।’অরুন চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘এই পাম্পে আজ কয়েকজন গ্রাহক এসেছিলেন যারা অন্য পাম্প থেকে তেল নিয়ে পুনরায় সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছিলেন। সার্ভারে টোকেন নম্বর দেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারচুপি ধরা পড়ে। প্রথম দিন হিসেবে তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুয়েল কার্ডে কারচুপি করে অন্য পাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে পুনরায় তেল নিতে এসে ধরা পড়ায় কয়েকজন গ্রাহক মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।