• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়িতে বিরিয়ানি খাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্ঠা ; অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক

খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি / ১২৪ দেখেছেন
আপলোড : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিরিয়ানি খাইয়ে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাও. মো. আব্দুল কাদের গাজী নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে । বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মাটিরাঙ্গা পৌরসভাধীন ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজখানা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার আছরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ঐ শিক্ষক রাতে বিরিয়ানি খাওয়াবেন বলে মাদ্রাসায় থাকার জন্য বলেন। হেফজখানা বন্ধ আছে জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী রাতে মাদ্রাসায় থাকতে অনীহা প্রকাশ করলে শিক্ষকের চাপে থাকতে রাজি হয়। পরে রাতে বিরিয়ানি খাওয়া শেষে বোর্ডিং রুমে ঘুমাতে গেলে তাকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. মো. আব্দুল কাদের গাজী।

বারবার আপত্তি করেও যখন ওই শিক্ষককে থামানো যাচ্ছিলো না তখন বাথরুমেও যাবার কথা বলে ওই শিক্ষার্থী দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। রাতে বলাৎকারের চেষ্টার বিষয়টি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মাও. মো. আব্দুল কাদের গাজী পালিয়ে যান।

অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করে
ভুক্তভোগীর মা জানান, মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের গাজী তার ছেলের সাথে খারাপ কাজ করতে চেয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানে এর আগেও একাধিকবার এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে। তবে উপযুক্ত প্রমানের অভাবে অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে গেছে।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার দিনভর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করেন ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজখানা ও এতিমখানার পরিচালক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতা মাও. আক্তারুজ্জামান ফারুকী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজখানা ও এতিমখানার পরিচালক মাও. আক্তারুজ্জামান ফারুকী বলেন, কমিটি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ অভিযুক্ত শিক্ষককে চারদিনের মধ্যে হাজির করার সময় দিয়েছেন। তখন বিষয়টি সমাধান করা হবে। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে নিউজ না করার অনুরোধ করেন সাংবাদিকদের।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজখানা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি অবগত রয়েছেন জানিয়ে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..