ফের অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে বর্তমান সরকার। ইরান- ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।বাংলাদেশে যতটা না সংকট এর চেয়ে বেশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়।অসাধু ব্যবসায়িরা জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।সরকার ঐ সব অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিলে সংকট প্রকট আকারণ ধারণ করতো না।সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যেভাবে মাথা ঘামাচ্ছেন সেভাবে অসাধু ও মজুতদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।করোনাকালে অনলাইন ক্লাস করার কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে স্মার্ট ফোন।
শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের সুবাদে ১ঘন্টার জন্য মোবাইল ফোন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন ভিডিও, রিলস দেখে সময় কাটিয়ে দেয়।শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অনলাইন ক্লাসের সুবাদে স্মার্টফোন দেওয়া হলেও দিন শেষে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।ফলে করোনা কাটিয়ে উঠার পরেও শিক্ষার্থীদের হাত থেকে স্মার্ট ফোন নেওয়া সম্ভব নয়।বরং তাদের দেখাদেখি তাদের জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও পিতামাতার কাছে স্মার্টফোনের আবদার করে বসে।অনেকক্ষেত্রে স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় পড়ালেখা না করা এবং আত্মহত্যা করারও হুমকি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।বর্তমানে একে তো শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোনে আসক্ত,যদি ফের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয় তাহলে প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্মার্টফোনের মালিক বনে যাবে।যার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা আবারো ভঙ্গুর পরিণতির দিকে যাবে।
প্রত্যেক সরকারের কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এত মাথা ব্যথা জানিনা।জ্বালানির সংকট হলে বড় অফিস আর অভিজাত হোটেল রেস্তোরাঁর এসি বন্ধ করে দেন।একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার এর চেয়ে বহুগুণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় অভিজাত হোটেল রেস্তোরাঁয়।এমপি মন্ত্রীদের কক্ষের এসি,সচিবালয়ের এসি বন্ধ করুন এতেই অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।এসব না করে সরাসরি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি করার কোন মানে হয়না।করোনাকালেও দেখা গেছে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি,গার্মেন্টস,ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সব চলেছে পুরোদমে কিন্তু বন্ধ ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।কিছু হলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের যে পুরানো রীতি তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।রমজানের লম্বা ছুটি শেষ হয়ে মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়ালেখা শুরু হয়েছে।হঠাৎ অনলাইন ক্লাসের আলাপ সত্যিকার অর্থে কোন ফল বয়ে আনবে না বরং শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পরিবর্তে স্মার্ট ফোনে আরো বেশি আসক্ত হবে।সুতরাং অনলাইন ক্লাসের সিন্ধান্ত সামগ্রীকভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিই হবে।
লেখকঃ শিক্ষক ও সমাজকর্মী