• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ির কারবারি পাড়ায় নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর তড়িৎ উদ্ধার অভিযানে প্রাণে বাঁচলেন নারী শিশুসহ ১১ জন

চাই সুই উ মারমা,রাঙ্গামাটি / ১৯ দেখেছেন
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তড়িৎ পদক্ষেপ ও সাহসিকতাপূর্ণ এই উদ্ধার অভিযানের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী, শিশু ও পুরুষসহ প্রায় ১১ জন একটি নৌকায় করে যাত্রা করছিলেন। পথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে ডুবে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অন্ধকারের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে নেমে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।তাদের দক্ষতা ও তৎপরতায় নৌকায় থাকা সকল যাত্রীকে নিরাপদে পাড়ে তোলা সম্ভব হয়।উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ বোধ করলে সেনাবাহিনীর রাজমনিপাড়া ক্যাম্পের তৎপরতায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।অন্যদিকে, শিশুসহ অন্যান্য যাত্রীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।জরুরি সংবাদ পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেনাবাহিনীর পেশাদার উপস্থিতি ও সফল উদ্ধার অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই মানবিক সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে সেনাবাহিনী যে নির্ভরতার প্রতীক—এই ঘটনা তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর তৎপরতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোন সূত্রে জানানো হয়েছে, পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..