চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী টানেলের নিকটবর্তী এলাকায় প্রায় ৭৮৪ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)’ প্রকল্পটি ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা হলেও এক দশক পেরিয়ে আজও সেখানে কোনো শিল্প-কারখানা স্থাপন হয়নি। বর্তমানে প্রকল্প এলাকা ধু-ধু ফাঁকা মাঠে পরিণত হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, একটি ছোট প্রশাসনিক ভবন এবং সংযোগ সড়কের কিছু কাজ দৃশ্যমান হলেও শিল্পায়নের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে মাত্র ৮ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিলে একটি ছোট একতলা অফিস পাহারা দিচ্ছেন। কবে নাগাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছেও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।কর্ণফুলী টানেল চালুর পর নদীর দক্ষিণ তীরে শিল্প সম্ভাবনার যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, সেখানে এই প্রকল্পটি সবচেয়ে লাভজনক হওয়ার কথা ছিল। কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড)-এর পর চায়না ইকোনমিক জোন ঘিরে আনোয়ারার অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল স্থানীয়দের মধ্যে।
সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে (জিটুজি ভিত্তিতে) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। চুক্তির প্রথম তিন বছরে প্রায় ২০০ একর পাহাড়ি টিলা সমান করা হয়। এছাড়া কালাবিবি দীঘি থেকে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক ৪০ ফুট প্রশস্ত করে ইট বিছানো হয় এবং বৈরাগ থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত চার লেনের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি প্রায় এক কিলোমিটার সীমানা প্রাচীরও নির্মিত হয়। তবে গত সাত বছরে এই সীমিত কাজের বাইরে আর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখানে ৩৭১টি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং প্রায় ৫৩ হাজার ৪২০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অবকাঠামো নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পাঞ্চল একটি ব্যর্থ প্রকল্পে পরিণত হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।