মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মো. রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকার বালুরচরে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাকিব শিমুলিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের দাবি, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পূর্বপরিচিত তিন যুবক গাড়ি নিয়ে এসে রাকিবকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে ভোরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর বালুরচর এলাকায় গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্বজনদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে রাকিব কয়েকবার পানি চেয়ে ইশারা করেছিলেন, এরপরই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
নিহতের খালা রোজিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।