ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা, অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ এবং নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে পৌরসভার নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ৪ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৪ দিনের পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত ছুটি নিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, ছুটিতে যাওয়ার আগেই গত ২৯ এপ্রিল থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে আগাম স্বাক্ষর করে রাখেন, যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী। এতে নথি প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ায় নির্বাহী কর্মকর্তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা না থাকায় এ সুযোগে তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। ফলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির অনিয়মিত উপস্থিতির প্রভাব পড়েছে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না, আবার কেউ কেউ আগেভাগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্ষোভ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নিজেই যখন নিয়ম মানেন না, তখন পুরো দপ্তরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবেই।
এদিকে, পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও জনগণের সেবা নিশ্চিত না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান তিনি ছুটিতে আছেন, স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন জনসাধারণের সুবিধার জন্য কিছ স্বাক্ষর করে এসেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মাহামুদুর রহমান বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। ২৯ এপ্রিল থেকে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পৌরসভার সেবার মান আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।