চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে অস্বাভাবিক হারে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই জনপদ একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মাছ ধরার ঐতিহ্য এবং সুস্বাদু ইলিশের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন তা স্বাস্থ্যঝুঁকির এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে রায়পুর ইউনিয়নে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অনেকে। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মানুষের এই জনপদে এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে এই এলাকায় ক্যান্সার বা কিডনি রোগের ঘটনা খুব কম শোনা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় কোনো না কোনো পরিবারে এমন রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এতে অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহ এম. আবু বকর বলেন,
“রায়পুর ছিল সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশের একটি জনপদ। কিন্তু গত কয়েক বছরে অত্যধিক হারে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এখন প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় কেউ না কেউ এসব রোগে আক্রান্ত। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এলাকাবাসীর একটি বড় অংশের ধারণা, শুঁটকি শুকানোর কাজে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুঁটকি দ্রুত শুকানো ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। এসব রাসায়নিক বাতাস, মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল বা সরকারি তদন্ত টিম এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান চালায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। অনেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, শুধু ধারণার ওপর নির্ভর না করে এলাকার পানি, মাটি ও বাতাসের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি। পাশাপাশি শুঁটকি শিল্পে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে জন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।