• রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
হেডলাইন :
ঝালকাঠিতে নদী ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল: নবান্নে পটপরিবর্তন ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ প্রবাসী স্বামীর ঝালকাঠির প্রতিবন্ধী বিএনপি কর্মী এমরাজকে অটোরিকশা উপহার দিলেন এ্যাড. শাহাদাৎ পাটগ্রাম সিমান্তে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের সতর্ক অবস্থানে বিজিবি নড়াইলে বজ্রপাতে দুই জন নিহত ও যাত্রীবাহী বাস উল্টে নারী-পুরুষ, শিশুসহ আহত ২০ পুশইন বন্ধে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় সা.সু.প নরসিংদী জেলা যুবদলের উদ্যোগে বিএনপি’র চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল

৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন বাস হেলপার দুলাল, নিহতের পরিবারের পাশে এসিআই মটরস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ১৬০ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

৪০ জন যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা বাস হেলপার দুলালের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস এর পক্ষ থেকে ইয়ামাহা রাইডারস ক্লাব বাংলাদেশ ও সিয়েট বাংলাদেশ। মানবিক এই উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে শোকাহত পরিবারটিতে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে দুলালের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ সময় নিহত দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও বড় ভাইয়ের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

উপস্থিত ছিলেন, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান সজিব, কুড়িগ্রাম ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন একরামুল হক, রংপুর ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের মডারেটর আহমেদ রাহাতসহ অন্যান্য সদস্যরা।

জানা গেছে, গত (২৯ মে) রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আহসান পরিবহনের একটি বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে চালক বাস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ঠিক সেই মুহূর্তে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন বাসের হেলপার দুলাল। তিনি বাস থেকে নেমে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে বাস থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থামলেও চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল। তবে তার আত্মত্যাগে রক্ষা পান বাসের ৪৬ জন যাত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দুলালের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। ট্রাকের সঙ্গে কাজ করেই চলতো দুই ভাইয়ের সংসার। দুলালের মৃত্যুর পর স্ত্রী আফরোজা বেগম এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলতো, চিকিৎসাও হতো। প্রতি মাসে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আসবে, এই চিন্তায় ঘুমাতে পারি না।

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নিজের জীবন বাজি রেখে যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর যে সাহসিকতা দুলাল দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, দুলালের পরিবারের পাশে থাকার জন্য ভবিষ্যতেও সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..