• রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ প্রবাসী স্বামীর

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: / ২ দেখেছেন
আপলোড : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন সৌদি আরব প্রবাসী শাহ আলম।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে শাহ আলমের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের মেয়ে রুজিনা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

রবিবার ৭ জুন সরেজমিনে উপস্থিত হলে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭/৮ বছর আগে শাহ আলম কর্মসূত্রে সৌদি আরবে যান। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠাতেন এবং জমি ক্রয় ও দেখভালের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করেন। পরে পার্শ্ববর্তী পেশকারগাঁও এলাকায় শাহ আলম ও তার ছোট ভাইয়ের নামে ২৬ শতক জমি একটি আন-রেজিস্টার্ড দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই জমিতে শাহ আলমের ভাইদের তত্ত্বাবধানে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়।

এদিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার ৩ রা জুন রুজিনা বেগম তার বাবা-মা ও স্বজনদের নিয়ে ওই টিনশেড ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ-সম্পদ নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
শাহ আলমের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, “রুজিনা আমাদের মামাতো বোন। পরিবারের সম্মতিতেই তার সঙ্গে শাহ আলমের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু পরে শাহ আলম সৌদি আরব থেকে উপার্জিত প্রায় সব অর্থই স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন।”

মোবাইল ফোনে সৌদি আরব থেকে শাহ আলম বলেন, “স্ত্রীকে বিশ্বাস করে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। এত কিছুর পরও সে শান্ত হয়নি। আমার ঘর ভেঙে দিয়ে সবকিছু নিয়ে চলে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।” অন্যদিকে রুজিনা বেগমের বাবা তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পেশকারগাঁওয়ের জমিটি মূলত আমার মেয়ের নামে ছিল। তাকে না জানিয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় সে ঘরটি ভেঙে ফেলেছে। তবে প্রবাস থেকে আমার জামাতা মেয়ের নামে কোনো টাকা পাঠাননি।”

রুজিনা বেগমকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় প্রবাসী শাহ আলমের পক্ষে তার বড় ভাই আব্দুল করিম বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক মিজানুর রহমান বলেন, “শাহ আলম ও তার ছোট ভাইয়ের নামে আমার মাধ্যমে স্ট্যাম্পে একটি আন-রেজিস্টার্ড দলিল সম্পাদন করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির ওপর নির্মিত ঘর ভেঙে রুজিনা জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “ঘর ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..