• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উপেক্ষা করে চলছিল তেল উৎপাদন, অভিযানে জরিমানা

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: / ৩৮ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খিয়ার জুম্মা এলাকায় জনবসতির মধ্যে পুরাতন টায়ার পুড়িয়ে অবৈধভাবে তেল উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে সোমবার (০৮ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খিয়ার জুম্মা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘এয়ার ওয়েল’ নামের একটি কারখানায় পুরাতন ও পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল। পাশাপাশি কারখানাটি জনবসতির মধ্যে পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কারখানাটিতে অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের সত্যতা পাওয়া গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। পরে পরিবেশ দূষণের দায়ে কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার অফিসার্স কলোনী এলাকার মৃত শামীমের ছেলে মো. রাজু আহমেদ (৪২)। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬ (গ) ধারা এবং ১৫ (১) ধারার ৬ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনা করেন তারাগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা। এ সময় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো শিল্পকারখানা বা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ দূষণ রোধে স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনবসতির মধ্যে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তারা পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিংয়েরও দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..