জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার বিচার, প্রক্টরের অপসারণ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠাসহ ৯ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
স্মারকলিপিতে জকসু দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, সেনাবাহিনীর কাছে প্রকল্পের কাজ হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করলে প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক বের করে দেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পরে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে ‘সিন ক্রিয়েট’ করে সেখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, হামলায় জুলাই আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ দুই যোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হন। বিশেষভাবে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং নির্বাহী সদস্য আহম্মদ আল ফারুকের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তাদের গুরুতর আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের বাইরে এবং হাসপাতাল এলাকায়ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
জকসুর উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িত ছাত্র ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক দায় নিরূপণ এবং অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।
স্মারকলিপির শেষে জকসু আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।