• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কে পানি, যান চলাচল বন্ধ; নৌকায় পারাপার, আটকা শত শত গাড়ি।

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি। / ২২ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। চলতি আগস্ট মাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বন্যার কবলে পড়েছে উপজেলাটি। বারবার বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের পুকুর ও পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে উপজেলায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাতভর ভারী বর্ষণের পর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় মেরুং, কবাখালী, বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কে চলাচলকারী মানুষ। দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কের অংশ নৌকায় পার হয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বাঘাইছড়ি ও সাজেকের সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মেরুং ইউনিয়নের ৩ নম্বর এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ২০ থেকে ৩০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে। এছাড়া কবাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উত্তর কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যাকবলিত ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বারবার বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও মাছের পুকুর ভেসে গেছে। পানির তোড়ে পোলট্রি মুরগির খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, চলতি আগস্ট মাসের একের পর এক বন্যায় অনেক পরিবার সর্বস্ব হারানোর পথে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বারবার পানি ওঠায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। একবার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি ও খামার গুছিয়ে নেওয়ার আগেই আবারও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “পানির প্রবাহ ক্রমশ বাড়ছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..