নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নের মতো চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এগুলো সাত ধাপে নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রায়পুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তুলনামূলক বেশি বলে কয়েকজন বাসিন্দা ও সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের প্রত্যাশা, রাশেদুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট সংস্কার, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, মাদক ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, খেলাধুলার প্রসার এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও করছেন তারা।
উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের মৎস্যজীবীদের নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। কয়েকজন মৎস্যজীবী অভিযোগ করে বলেন, অতীতে কিছু অসাধু ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এ ধরনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও প্রত্যাশা, একজন যোগ্য ও জনবান্ধব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সেবা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। ইউনিয়নের শিক্ষা, যোগাযোগ, জনসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।
তবে স্থানীয়দের এসব প্রত্যাশা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থীতা এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর রায়পুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।