সিরাজগঞ্জ -৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ডিপি আইনুল হক এমপি সাহেবকে ঘিরে ধানগড়ায় সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রায়গঞ্জ উপজেলা শাখা।
রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অরাজনৈতিক স্থানীয় দাবি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের ওপর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া দায় চাপানো অনুচিত, অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, রায়গঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের রাজনীতি করে আসছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গালিগালাজ, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা কিংবা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তারা বলেন, হামলা, উস্কানি, অশালীন আচরণ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, ধানগড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবি একটি স্থানীয় জনদাবী। এ দাবির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তাদের দাবি, টিটিসি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধের বিষয় না বানিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ওই কর্মসূচিতে সাংগঠনিকভাবে অংশগ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ঘটনার আগে থেকেই বিতর্কিত কিছু বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার সময়ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগ ওঠে।
তাদের দাবি, পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে একজন ব্যক্তিকে এমপি সাহেবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার সময় কে বা কারা এমপি সাহেবের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা জরুরি। তাদের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ ঘটনাকে জামায়াত-শিবিরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অনভিপ্রেত।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা কোনো সংঘাত বা প্রতিহিংসা চান না। তারা চান সত্য উদঘাটিত হোক, অপরাধীরা শাস্তি পাক এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।
সবশেষে তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি রায়গঞ্জের সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা আমীর আলী মর্তুজা, সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি ডাঃ মোঃ কামরুল, যুব জামায়াতের সভাপতি সুমন আহমেদ, অফিস সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন, কর্ম পরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, পৌরসভার আমীর হোসেন আলী,সাবেক মেয়র মোশারফ হোসেন আকন্দ, সহ সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার পার্থীগন উপস্থিত ছিলেন।