• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

দীঘিনালার শাহজাহান পেলেন জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক।

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি। / ৬ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের সফল মাছচাষি মো. শাহজাহান। ‘মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী’ ক্যাটাগরিতে তিনি এ সম্মাননা লাভ করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার হাতে স্বর্ণপদক, সনদ ও ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে মো. শাহজাহান ছয়টি পুকুরে মোট ৩ দশমিক ২ হেক্টর জলায়তনে ১২ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করেন। পাশাপাশি ১ দশমিক ২১ হেক্টর জলাশয়ে তেলাপিয়া ও কার্পের মিশ্রচাষের মাধ্যমে তিনি উৎপাদন করেন ২৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মাছ।
১৯৮৮ সাল থেকে মাছের পোনা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে দীঘিনালা উপজেলা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যচাষিদের পোনার চাহিদা পূরণ করে আসছেন। তার সফলতা ও অভিজ্ঞতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক মানুষ মাছচাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন নতুন মাছের খামার।
শাহজাহানের খামারে স্থায়ীভাবে ৬ জন এবং অস্থায়ীভাবে আরও ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ বলেন, “শাহজাহান মিয়ার এই অর্জনে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি এলাকায় ফিরে এলে তার এই অর্জনকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “তার এই সাফল্য দীঘিনালার অন্যান্য মৎস্যচাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের মাছচাষে আরও উৎসাহিত করবে। আমরা আশা করি, তার দেখানো পথে আরও মানুষ মাছচাষে এগিয়ে আসবেন এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

স্থানীয় সাংবাদিক হাসান মোর্শেদ রিফাত বলেন, শাহজান কাকার এই সাফল্য পুরো দীঘিনালাবাসীকে গর্বিত করেছে। তার এমন অর্জনে আমরা সত্যিই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের নয়, পুরো দীঘিনালা উপজেলার পরিচয় দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তার এই সাফল্যের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশ নতুন করে দীঘিনালাকে জেনেছে। দীঘিনালাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। তার এই অর্জন ভবিষ্যতে এলাকার তরুণ ও মৎস্যচাষিদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
এদিকে শাহজাহানের জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের খবরে তার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তার এই অর্জনকে দীঘিনালার মৎস্যখাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছচাষের মাধ্যমে শাহজাহান শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেননি; একই সঙ্গে তৈরি করেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং অন্যদের মাছচাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক অর্জনের মধ্য দিয়ে তার সেই দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..