চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আদালতের আদেশের পর আনোয়ারা থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। থানার মামলা নম্বর ১৮।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৭টার মধ্যে চাতরী ইউনিয়নের চাতরী চৌমুহনী এলাকার হাজী আবুল হোসেন মার্কেটে মো. শাকিলের দোকানের সামনে দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও হাড়ভাঙার মতো জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদেরও মারধর এবং তাঁদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত ১৩ জন হলেন—মো. রুবেল, আজম খান, মো. জুয়েল, মো. আকিব, মো. মিজান, মো. আবির হেলাল, মো. ইকবাল, মো. দিদার, মো. সেকান্দর, মো. সাকিব, মো. মোরশেদ, মো. মুহিম ও দেলোয়ার হোসেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের দাবি, আসামিদের মধ্যে আজম খান ও রুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পঞ্চম আসামি মো. মিজান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা এবং আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শওকত ওসমানের অনুসারী বলেও দাবি করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, হামলায় তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। হামলার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে চাতরী চৌমুহনী বাজারে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাজারের হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্স দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন এবং পরে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আনোয়ারা থানায় মামলা করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।