• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন

আমরা গরিব মানুষ, ঝামেলায় জড়াতে চাই না; মামলা করেছিলাম, আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন – বিয়ের আশ্বাসে প্রতারণার অভিযোগ, বিষপানে নারীর মৃত্যু; গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্য

মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ২৮ দেখেছেন
আপলোড : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার সূত্র ধরে এক চিকিৎসকের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাখার পর প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি বিষপান করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেদগ্রাম এলাকার অমিত বিশ্বাস দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসক তাপস, নিয়মিত তাদের বাড়িতে চিকিৎসা দিতে যেতেন। এ সময় অমিতের স্ত্রী মিতু বিশ্বাসের সঙ্গে চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে অমিত ও মিতুর বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

পরিবারের দাবি, বিচ্ছেদের পর চিকিৎসক তাপস বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মিতুকে শহরের একটি ভাড়া বাসায় প্রায় দেড় বছর রাখেন। কিন্তু বিয়ের বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করায় মিতু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্বজনদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা গ্রামের একটি শ্মশানে বিষপান করেন মিতু। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৩ জুলাই তিনি মারা যান।

মিতুর বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নোলামারা গ্রামে। তার মৃত্যুতে দুই সন্তান মা–হারা হয়েছে।

মিতুর সাবেক স্বামী ও শ্বশুর সাংবাদিকদের  বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। মামলা করেছিলাম। গত ২ জুলাই ২০২৬ আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। ভগবান যা করেন, মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সংসার ভাঙার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক তাপসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..