টানা বর্ষণ ও সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে নদীর তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকার ঐতিহ্যবাহী পোয়াংবাড়ী জামে মসজিদের কবরস্থান। নদীর অব্যাহত ভাঙনে কবরস্থানের একটি অংশ ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদী আরও ভেতরের দিকে অগ্রসর হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরের বড় অংশ ধসে নদীতে পড়ে গেছে। মাটির নিচে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত মাটি সরে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই কবরস্থানের আরও বড় অংশ নদীর সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এবারের বন্যায় নদীর পানির তীব্র স্রোতে নদীর তীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কবরস্থানের পাশের মাটি ধসে পড়তে শুরু করে। ইতোমধ্যে শত বছরের পুরোনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি কবরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াংছা ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষের স্বজনদের দাফন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি কবরস্থান নয়, স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হলে তা পুরো এলাকার মানুষের জন্য গভীর কষ্ট ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ব্লক ফেলা, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ অথবা অন্যান্য টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কবরস্থানটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কবরস্থানটি রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আপ্রুসিং মার্মা বলেন, খবরটা পাওয়ার সাথে সাথে আমি গিয়ে দেখেছি। এবং আমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।