• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁয় হানিট্র্যাপ চক্রের নারী সদস্যসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

মোঃ রাফি হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: / ১৯ দেখেছেন
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের অভিযানে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া একটি স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানা এলাকার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন নওগাঁ শহরের বাসিন্দা মোছা. চামেলী আক্তার মিলি। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চামেলী আক্তার মিলি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ওই শিক্ষককে ফোন করেন। জরুরি বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে নওগাঁ শহরে তার বাসায় আসতে বলা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি বিষয়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক নওগাঁ শহরে মিলির বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর মিলিসহ আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাকে আটক করে ভয়ভীতি ও মারপিটের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ সদর থানা পুলিশের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়া নদীর পশ্চিম পাশের বাসিন্দা মৃত হামিদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার নান্টু প্রামাণিকের ছেলে মো. রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়া এলাকার সেকান্দর আলীর ছেলে মো. সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে মো. নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প এবং দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে, চক্রটি আন্তঃউপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনে ফেলে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো ছবি তুলে তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

পুলিশের দাবি, চক্রটি সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রথমে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে কৌশলে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল কিংবা অন্যান্য উপায়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..