দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বোনতারা-গিলাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’ করা চার বাংলাদেশিকে আটক করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও আনসার সদস্যরা। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে সদর উপজেলার বোনতারা-গিলাবাড়ী এলাকার আত্রাই নদীসংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শংকরপুর ইউনিয়নের সালকি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আনসার সদস্য আব্দুস সালাম ও জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের ভাষা, আচরণ ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিনাজপুর সেক্টরের অধীন ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের যশোর জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তারা কয়েকদিন আগে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ভারতে অবস্থানের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আত্রাই নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ অভিমুখে পুশব্যাক করে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে। তবে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তারা প্রকৃতপক্ষে যশোর জেলার বাসিন্দা কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের আকুব্বর মোল্যা, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম, বোরহান মোল্লা ও রমজান মোল্লা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজনকে শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে বিজিবি জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।