বান্দরবানের থানচিতে মিজোরাম থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসা বম সম্প্রদায়ের তিন পরিবারের ১৮ সদস্যকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিজ নিজ পাড়ায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে তাঁদের শেরকর ও প্রাতা পাড়ায় প্রত্যাবাসন করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী (১৬ ইবি)-এর নেতৃত্বে তিন পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথন বম ও প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বম উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যাবাসনের আগে বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ কেজি আলু ও ৫ কেজি লবণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি বালতি, মগ, পাতিল, প্লেট, গ্লাসসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।
ফিরেছে তিন পরিবার
প্রথম পরিবারের সাত সদস্য হলেন—রুয়াতখুপ বম (৪৬), জিং সিয়াম ময় বম (৪০), রুসাত সাং বম (১৫), নিএং ময় বম (১৩), সিয়াম থারময় বম (১০), জিরসময় বম (৭) ও জেকলিয়ান বম (৫)। তাঁদের বাড়ি শেরকর পাড়া, ৩৭৩ নম্বর পদ্ম মৌজা, থানচি সদর ইউনিয়ন।
দ্বিতীয় পরিবারের আট সদস্য হলেন—লালচম বম (৫৫), জুমিয়া ইয়াং বম (৪৬), জিলিয়ান বম (২৫), লালথান জোয়াল বম (২২), ভানসিরাম পার বম (২৪), লালমাঙ্গাই বম (২), সলত্রং পার বম (১৮) ও ডামনুন সাং বম (১২)। তাঁদের বাড়িও শেরকর পাড়া।
তৃতীয় পরিবারের সদস্য তিনজন—ভানরৌখম বম (২৭), হেলেন বম (২৬) ও ভানলাললম বম (৪)। তাঁদের বাড়ি প্রাতা পাড়া, থানচি সদর ইউনিয়ন।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পর এসব পরিবারের সদস্যরা মিজোরামে অবস্থান করছিলেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর মিজোরামের শিলকর থেকে রাঙামাটির শিলকোপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশের সময় ১২ বিজিবির থেগামুখ বিওপির সদস্যরা তাঁদের আটক করে হেফাজতে নেন।
পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবান রিয়ার আইসি (১৬ ইবি) তাঁদের গ্রহণ করেন। নিজ নিজ পাড়ায় প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে তাঁদের বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে ক্যাম্পের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে তাঁদের নিজ নিজ পাড়ায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী সহায়তা হিসেবে দেওয়ায় তাঁদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে।