• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে যুব নাগরিক শক্তির নেতাসহ ৫ গ্রেপ্তার, অপহৃত উদ্ধার

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি: / ৮ দেখেছেন
আপলোড : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

দিনাজপুরে আব্দুস সামাদকে নিজ খামারবাড়ি থেকে অপহরণ করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহৃত ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের থানা থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও দুইজনকে আটক করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন (২৯), সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) ও হৃদয় হোসেন (২২)। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের পাঁচমাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকার নিজ খামারবাড়ি থেকে আব্দুস সামাদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায় ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত। ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও প্রথমদিকে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস জব্দ করা হয় এবং আরিফ মুন, হাসিন ইশরাক মিম ও আজমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে অপহৃতের ছেলে বাদী হয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করলে আটক তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলয়ের পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতা-কর্মী কোতোয়ালি থানায় জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পুলিশের গাড়ি থেকে গ্রেপ্তার আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে থানা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে সমজিদুল মিনহাজ ও হৃদয় হোসেনকে আটক করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। উদ্ধার হওয়া আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, অপহরণের পর তাকে সারারাত বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে একটি কবরস্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ১২ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। অপহরণকারীদের নির্দেশে তিনি পরিবারের সদস্যদের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নুরুন্নবী বলেন, “অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..