• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মৌলভী শিক্ষক আটক

মোঃ রাশেদুল ইসলাম , খানসামা, দিনাজপুর, প্রতিনিধি;- / ৪৬ দেখেছেন
আপলোড : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আলোকঝাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরীক্ষার সময় ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে আটক করে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী (১২) দারুল কোরআন মডেল মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি আলোকঝাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। চলতি বছরের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে একটি প্রশ্ন বুঝতে না পারায় সে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ওই কাছে বিষয়টি জানতে চায়।

অভিযোগে বলা হয়, প্রশ্ন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থী বিষয়টি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের কাছে জানায়।

স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার খানসামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মনাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ওয়াহেদ আলীকে আটক করে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অন্যদিকে ওই শিক্ষকের পরিবার দাবি করেছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বাছেত সরকার বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..