বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় শত শত মানুষ যখন খাদ্য সংকট, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তখন অনেক প্রতিশ্রুতির ভিড়ে বাস্তব সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঢাকার শ্যামলী থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছায়াতল বাংলাদেশ-এর ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুর ২টায় বলিপাড়ায় পৌঁছে দুই দিনব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। বহু পরিবার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছে। দুর্গম এলাকার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এমন বাস্তবতায় ছায়াতল বাংলাদেশের এই উদ্যোগ বন্যার্ত মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
সংস্থাটির প্রতিনিধি দল প্রথমে বলিপাড়া ইউনিয়নে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং পরে নিবেদিতা কুমারী মারিয়ার ধর্মপল্লীতে অবস্থান নেয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই দিনের এই কর্মসূচির আওতায় হিন্দুপাড়া, বলিপাড়া, আইলমারা পাড়া ও বাগানপাড়া এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
ছায়াতল বাংলাদেশের অপারেশন হেড মেহবুবা আক্তার জানান, দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন প্রতিবার দুর্যোগে একই অবহেলা ও সংকটের মুখোমুখি না হয়, সে জন্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়—দ্রুত পুনর্বাসন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই সরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগের পর মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়ে যায় না; বরং তখনই শুরু হয় বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।