• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন :

সম্ভাবনা থেকে সাফল্যের পথে এগোচ্ছে রাবিপ্রবি -২৬ বছরে পদার্পন করল রাবিপ্রবি

মোঃ আয়নুল ইসলামঃ / ৭ দেখেছেন
আপলোড : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

 

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদ আর সবুজের অপরূপ সমাহারের মাঝেই গড়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। “শিক্ষা, সম্প্রীতি, প্রগতি” এই তিন মূলনীতিকে ধারণ করে আজ ২৬ বছরে পদার্পণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আজ রাবিপ্রবির ২৫ তম জন্মদিন। এই মাইলফলক শুধু প্রতিষ্ঠানটির বয়সের হিসাব নয় এটি স্বপ্নের বিকাশ, সংগ্রামের ইতিহাস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতীক।

বাংলাদেশ সরকারের আইন, ২০০১ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও রাবিপ্রবিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে। প্রথমদিকে শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঝগড়াবিলে ৬৪ একর জায়গাজুড়ে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ছোট্ট যাত্রা আজ একটি সম্ভাবনাময় বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদের অধীনে পাঁচটি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ শিক্ষক, উদ্যমী শিক্ষার্থী এবং গবেষণামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় রাবিপ্রবি ধীরে ধীরে দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি গবেষণা, বিতর্ক, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ জুলাই ‘রাবিপ্রবি দিবস’ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে। আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা দিবসটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত অর্জনকে স্মরণ এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠবে।

রাবিপ্রবি একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। এখানকার বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য উদাহরণ। একই সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, নতুন বিভাগ ও উচ্চতর ডিগ্রি চালু, শিল্প-একাডেমিয়ার সংযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন রাবিপ্রবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণে প্রত্যাশা রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী গবেষণার একটি অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে রাবিপ্রবি শুধু দক্ষ গ্র্যাজুয়েটই নয়, দেশ গঠনের যোগ্য নাগরিক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

লেখক: সভাপতি, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..