• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

শহীদ জিয়া থেকে তারেক রহমান: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভূ-কৌশলগত রূপান্তর ও সার্বভৌম স্বর্ণযুগের অভীক্ষা

- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া। / ৪৪ দেখেছেন
আপলোড : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো নবনির্বাচিত সরকারপ্রধানের প্রাথমিক বৈদেশিক সফরের ক্রমবিন্যাস কেবল প্রথাগত সৌজন্যমূলক দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ নয়; বরং এটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অগ্রাধিকার, কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অভিমুখের (Geo-political Orientation) এক অকাট্য ইশতেহার।”

 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্ব গ্রহণের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক পদক্ষেপসমূহ বিশ্বরাজনীতির বোদ্ধাদের গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে। প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে কুয়ালালামপুর গমনের পর, তার ঠিক পরপরই দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে ‘বেইজিং’ তথা চীনকে নির্বাচন করা বাংলাদেশের সমসাময়িক পররাষ্ট্রনীতিতে এক যুগান্তকারী ও কাঠামোগত পরিবর্তনের স্পষ্ট সিগন্যাল। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা যে প্রথাগত আঞ্চলিক ও একমুখী কূটনৈতিক বলয়ের (Monocentric Diplomatic Sphere) মনস্তাত্ত্বিক চাপে ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরেই বেইজিংকে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের এক নতুন ‘স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বকীয়’ সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাঠক হিসেবে আমি এই রূপান্তরকে নিছক আকস্মিক ঘটনা মনে করি না; বরং এটি চার দশক আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রোপিত সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনীতির কৌশলগত বীজের এক অবধারিত ও যৌক্তিক বিবর্তন।

 

ঐতিহ্যের ভিত্তিভূমি ও শক্তির ভারসাম্য (Balance of Power): শহীদ জিয়ার বাস্তবমুখী কূটনীতিঃ
চীনের সাথে বাংলাদেশের মৈত্রী সম্পর্কের শুভ সূচনা কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল বা ক্ষণস্থায়ী আবেগ ছিল না, বরং তা ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও বাস্তবমুখী (Pragmatic Realism) কূটনীতির এক ঐতিহাসিক ফসল। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য আনয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি চীনের সাথে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত করেন। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি মাসে শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক বেইজিং সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ‘প্যারাডাইম শিফট’ (Paradigm Shift) ঘটায়।
শহীদ জিয়ার এই দূরদর্শী পদক্ষেপ ঢাকাকে একক আঞ্চলিক পরাশক্তির মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি চর্চার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ‘শক্তির ভারসাম্য’ (Balance of Power) তত্ত্বের আলোকে তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, একটি উদীয়মান ও ক্ষুদ্রতর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হলো তার বাহ্যিক কূটনৈতিক বিকল্পের প্রসার। বেইজিং ছিল সেই সমীকরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং কাঠামোগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশীদার।

 

প্রাতিষ্ঠানিক সুসংহতকরণ: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলঃ
পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এই সম্পর্ক কেবল অক্ষুণ্ণই থাকেনি, বরং তা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক (Institutionalized) রূপ লাভ করে। ২০০২ সালে চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জু রংজি’র ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর এবং বেগম খালেদা জিয়ার বেইজিং সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতায় পৌঁছায়।

বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালেই চীন বাংলাদেশের প্রধানতম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে স্থায়ীভাবে আত্মপ্রকাশ করে। জিয়া পরিবারের এই সুসংহত কূটনৈতিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দরকষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) এনে দিয়েছিল, যা ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক জোটের লেজুড়বৃত্তি না করে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের শক্তি যোগায়।

 

‘নব্য-বাস্তববাদ’ এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy):
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘নব্য-বাস্তববাদ’ (Neo-realism)-এর অন্যতম প্রধান প্রবক্তা কেনেথ ওয়াল্টজের তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা হলো একটি ‘অরাজক’ (Anarchic) ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রকে তার নিজের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয় (Self-help System)। বর্তমান বিশ্বরাজনীতির তীব্র চড়াই-উতরাই ও নতুন শীতল যুদ্ধের (New Cold War) পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দ্বি…

 

– প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..