• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

থানচির দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার শতাধিক পর্যটক টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীতে তীব্র স্রোত, ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ সব পর্যটনকেন্দ্র

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: / ৫২ দেখেছেন
আপলোড : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে উপজেলা সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে জেলা প্রশাসন আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় গাইড ও রিসোর্ট মালিকদের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রেমাক্রী, আমিয়াখুম, নাফাখুম, সাইগং ঝরনা ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকেরা কয়েক দিন ধরে আটকা পড়ে ছিলেন।

থানচি টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা জানান, রেমাক্রী বাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে গাইডসহ ৭৪ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে তাদের নিরাপদে থানচি সদরে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া আমিয়াখুম এলাকায় আটকে থাকা ১৮ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাইগং ঝরনায় আটকে থাকা আরও ১০ জন পর্যটক ইতোমধ্যে উপজেলা সদরে পৌঁছেছেন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রিসোর্ট মালিকদের সহযোগিতায় তাদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সবাই নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচি সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নদীর তীব্র স্রোত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবান-থানচি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত মাটি ও পাথর অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেছেন। থানচি-নীলগিরি সড়ক সচল রাখতে সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় থানচি উপজেলায় ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সাঙ্গু নদীতে প্রবল স্রোত বিরাজ করছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের থানচির দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পটে পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..