• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

এক বছরে ১৬৬ গ্রেফতার, উদ্ধার ২ লাখের বেশি ইয়াবা ও ১৩ অপহৃত ভিকটিম: ৮ এপিবিএনের অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি / ১৭৪ দেখেছেন
আপলোড : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৮ এপিবিএন), উখিয়া, কক্সবাজার। ইউনিটটির অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, পিপিএম-এর নেতৃত্বে গত এক বছরে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, অপহরণ ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩১ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, চুরি হওয়া মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি এবং এফডিএমএন, কক্সবাজারের ডিআইজির সার্বিক দিকনির্দেশনায় ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, পিপিএম-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইউনিটটির গোয়েন্দা দল ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে।
৮ এপিবিএন সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৪ মে অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৭১টি মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন।
একই সময়ে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২,০৪,০৩১ পিস ইয়াবা, একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকিটকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ থেকে জব্দ ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩৭টি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন।
অপহরণের ঘটনাগুলোতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন বয়সী ১৩ জন ভিকটিমকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ৮ এপিবিএন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিটি অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে এসব সফলতা অর্জিত হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, অনলাইন ও সরাসরি জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধেও ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযানিক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক নেতৃত্বের জন্যও প্রশংসিত হচ্ছেন অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, পিপিএম। ইউনিটের সদস্যদের কল্যাণে সেন্ট্রি পোস্ট নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সদস্যদের সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানে তিনি নিয়মিত উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক ও মানবিক আচরণ ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
৮ এপিবিএনের সদস্যদের মতে, ধারাবাহিক এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কার্যকর নেতৃত্ব, গোয়েন্দা তৎপরতা, পেশাদারিত্ব এবং দলগত সমন্বয়। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএন একটি আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..