কবি:মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার
বাবা আমার মাথার ছাতা, রোদ-তুফানের দিনে,
নিরাপদ এক আশ্রয় তোমায় রাখছি হৃদয় চিনে।
গ্রীষ্মকালের তালপাখা গো, শীতকালের ওই কাঁথা,
ক্লান্ত জীবন-ছাউনি আমার, মাথার মুকুট পাতা।
জন্মদিনে মহাখুশি ছড়িয়ে দশ গামে,
মিষ্টি মুখে বলতে বাবা— “খোকা এলো ধামে!”
কান্না যখন থামতো না মোর সারাবেলার খেলায়,
মা’কে রেগে বলতে তখনি— “ফেলো পুকুর-ভেলায়!
লাগবে না আর এমন ছেলে…” কিন্তু একটু পরে,
বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে আদর দিতে ভরে।
দূর দেশ থেকে ফেরার পথে আনতে কত কী যে!
হাটে গেলে কাঁধের পরে তুলে নিতে নিজে।
হাঁটতে আমায় দিতে না গো, কাজও করতে বারণ,
বটবৃক্ষের ছায়ায় রেখে কষ্ট নিলে ধারণ।
জোছনা রাতে তারা গুনে গল্প বলতে কত,
আমায় নিয়ে স্বপ্নে বাঁধার দিনটি অবিরত।
রাত্রে কেঁদে উঠলে আমি বুকে জড়িয়ে ধরে,
গান শুনাতে, মাথায় তোমার হাতটি বুলে বিহরে।
নিজের হাতে খাবার তুলে দিতে আমার মুখে,
অসুখ হলে ব্যাকুল হতে, কষ্ট পেতে বুকে।
প্রার্থনাতে কাঁদতে বসে হাতটি তুলে উপরে—
“নিজের প্রাণের বদলে হলেও বাঁচাও খোকাটারে!”
বাড়লাম কত, হলাম বড়, তাও তো আমি খোকা,
বুদ্ধি আমার বাড়লেও আজ তোমার কাছেই বোকা।
সবাই আমায় ‘চাচা’ ডাকে, বয়স হলো কত!
বাবার কাছে আগের মতোই ছোট্ট খোকা অবোধ।
বলতে আমায়— “তুই যে আমার সাত রাজার ধন মানিক,
হীরা-রতন, মানিক-সোনা, আমার পরাণখানিক।”
পাহাড় সমান চাওয়ার মাঝে আকাশ সমান পাওয়া,
শিখিয়ে গেলে— মানবিকতায় মানুষ হয়ে যাওয়া।
মৃত্যুকালে অপলক ঐ নয়ন দুটি মেলে,
জল ঝরিয়ে বলতে বাবা— “আয় না কাছে, ছেলে!
শেষ বিদায়ে দেখে নিই তোকে নয়ন দুটি ভরে,
মরার পরেও দোয়া আমার থাকবে তোৰে ঘিরে।”
সুখ-দুঃখের জীবনভেলায় তুমিই অনুপ্রেরণা,
শিখিয়ে গেলে বাবার ভালোবাসার অমূল্য এই দেনা।
এখনো গভীর রাতে ঘুমের মাঝে স্বপ্ন নেমে আসে,
আদর করে জড়িয়ে ধরো, থাকো আমার পাশে।
আঁতকে উঠে জেগে দেখি— নিঝুম চারিপাশে,
তুমি তো নেই বাবা আমার, শূন্য বাতাস ভাসে!
(১১ই আশ্বিন,১৪৩৩ বং,গাজীপুর)