
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত ১- ১২ তম শিক্ষক নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন। বেকারত্বের ঘানি মাথায় নিয়ে হতাশা,অবহেলা, অর্থ সংকট আর বঞ্চণা নিয়ে জীবন পার করছেন। শুরু থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সময় নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম, মানববন্ধন, আদালতে মামলা, রিট, স্মারকলিপি প্রদান, অনশন এবং এনটিআরসিএ এর কর্মকর্তা ও সরকার দলীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কোন কিছু বাদ রাখেননি তারা তবুও তারা এখনো নিয়োগ থেকে বঞ্চিত, নেই কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা !
কিন্তু কেন ?
সারা দেশে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ জাল সনদে চাকরি করলেও বৈধ সনদধারীরা এখনো বঞ্চিত।
গত ১৭ বছর ন্যায়বিচারহীনতায় দলীয়করণ, কোটা, দুর্নীতি আর জাল সনদের নিয়োগবানিজ্য করার কারণে বৈধ সনদধারী ১-১২তম নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়নি আবার ১৭ বছর চলার পথ সুগম করেছে সচিবালয়ের সেই পুরনো দুর্নীতিবাজ কিছু আমলারাই।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক নেতাদের কথা দিয়েছিলেন যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নিয়োগের ব্যবস্থা করবো। তারই ধারাবাহিকতায় অসংখ্য বার শিক্ষক নেতাগণ শিক্ষামন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন, অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, রাষ্ট্রপতি ফখরুল হোসেন আলমগীর এবং অনেক নেতাকর্মীর সাথে স্বাক্ষাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করেছেন। এনটিআরসিএ এর নতুন চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু সবাই নিয়োগের পক্ষে কথা বললেও এখনো কেন নিয়োগের বিষয়ে চুড়ান্ত ঘোষণা আসছে না বা নিয়োগ হচ্ছে না এ নিয়ে তারা বেশ হতাশায় আছেন।
সনদের মেয়াদ আজীবন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির গেজেট, ২০০৫ এর আইনে পরিপত্র, সর্বশেষ ১–১২তম কন্টেম্ট মামলার নিয়োগ আদেশ কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি দুর্নীতিবাজ সরকার। ১-১২ তমদের বাদ দেবার পরিকল্পনা হিসেবে তারা ৩৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করলেও সেখানেও আপিলবিভাগে হেরে যায় NTRCA ২০১৮ সালের পূর্বে পাশকৃর্ত ১-১২ তমদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর সীমা প্রযোজ্য নয় সেই রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। একটি দুর্নীবাজ ও আমরা চক্র সবসময় ১-১২তম দের নিয়োগ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে লেগে থাকে।
সেই ভন্ড আমলারাই বর্তমান সরকারের নির্বাচনের পূর্বের নিয়োগ প্রতিশ্রুতি ঠেকাতে ভুলভাল তথ্য দিয়ে নির্বাহী আদেশ ঠেকাচ্ছেন। নির্বাহী আদেশ সরকারের প্রয়োজন সংক্রান্ত আদেশ এখানে মামলার অযুহাত যে সচিব মিটিং এ তুলেছেন তারাই ১৭ বছর জাল সনদ আর নিয়োগ জালিয়াতির সাথে জড়িত। ১-১২ তমদের নিয়োগ দেওয়া হলে দূর্নীতির রাঘব বোয়াল হিসেবে তারা ধরা পড়ে যাবে।
নিয়োগ আটকিয়ে দিচ্ছে আবারও সেই পুরান আমলারা আর ১-১২ তম নেতারা আছে বিচ্ছিন্ন গ্রুপে বিভক্ত। এভাবে যতই তদবির হউক যতই প্রধানমন্ত্রীর স্ব সাক্ষাত নেন কেউই সফল হবেনা। দরকার বৃহৎ পরিসরের সমন্বয় ও করনীয় আলোচনা নয়ত মামলার অযুহাতে কখনই নিয়োগ হবেনা। আর মামলা তুলে হেয়ারিং করাবেন সেই কুচক্রী গোষ্ঠী মামলার সবকিছু ১-১২ তমের পক্ষে থাকলেও তদবিরে মামলাকে হারাবে।
যা ইতোপূর্বে ঘটেছে, ১-১২ তমকে ১৩তম ব্যাচ বানিয়ে কন্টেম্ট মামলার নিয়োগ আদেশের রায় খারিজ করেছে। পরবর্তীতে পূনরায় কোর্টে পুনরায় তোলা হলেও কোর্ট ভুল হয়েছে স্বাীকার করেও আফসোস ছাড়া কিছুই দেয়নি।
২০১৬ সালে ১-১২ তমের ঐক্যবদ্ধ বৃহৎ আন্দোলন ও ২০১৭ সালে মামলার রায়ের ফলাফল সম্মিলিত মেধাতালিকা প্রকাশ করতে রায় দেন আদালত ও NTRCA মেধাতালিকা করতে বাধ্য হয়।
২০১৮ সালে ১৩তমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলো বলেই ২২০৭জন কোর্টের মাধ্যমে নিয়োগ পান। ২০০ দিনের আন্দোলন ব্যাপক সাড়া তুললেও আগে মাঠ ছাড়ায় প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত গিয়েছিলেন মাত্র সফল হয়নি।
অন্তবর্তী সরকারের সময়ও ব্যাপক আন্দোলন আশা জাগিয়েছিলো অনেকে আহত হয়েছিলো কিন্তু প্রাইমারিরা সে আন্দোলনকে নিজেদের ছাপিয়ে ফলাফল তারা নিয়েছে। তদবির আসলে কোনো কাজে দেয়নি, তদবির তখনই কাজে দেয় যখন তারা লাভবান হয়। কোর্টে বারবার হেয়ারিং রায় পক্ষে থাকলেও চুড়ান্ত নিয়োগ আদেশ দেয়নি, প্রতিপক্ষের ভুল তথ্যে কোর্ট তাদের হয়ে রায় দিয়েছে।
আসলে করনীয় কি সবাই জানে কিন্তু ৯০% ই ঘরে বসেই ফাও চাকরি চায়। ঐক্যবদ্ধ করনীয় ও উপস্থিতি কখনই হয়না। শুধুমাত্র প্রকৃত নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষকদের মহাসমাবেশ ও তালিকা দরকার ছিলো এই সরকারের শুরুতেই। তখন সর্বোচ্চ ৫ হাজার নিয়োগবঞ্চিত আসতো আর যারা আসেনা তারা কখনই নিয়োগবঞ্চিত নয় সেটা জানান দেয়া যেতো সরকারকে। নিয়োগের আশায় নিয়মিত বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও কেন কোন সমাধান হচ্ছে না! এই প্রশ্নই এখন সকলের মনে।