• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

এসএসসিতে জুড়ীর সেরা সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘি, গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে গড়ল অনন্য কৃতিত্ব

জুড়ী প্রতিনিধি: / ২২২ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে নিরোদ বিহারী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘি। গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি সে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১১৯১ নম্বর। তার এই ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি জুড়ীজুড়ে তৈরি হয়েছে গর্বের আবহ।

সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পড়াশোনা, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

২০২০ সালে সপ্তদ্বীপা শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এরপর ২০২৪ সালে অর্জন করে প্রেসিডেন্ট স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক বেসরকারি বৃত্তি অর্জন করে নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে সে।

সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘির সাফল্যে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও আনন্দিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অটুট থাকার কারণেই সপ্তদ্বীপা ভালো ফলাফল করতে পেরেছে। তার এই সাফল্য বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘি জানায়, সে একজন দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ চিকিৎসক হতে চায়। চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের সেবা করাই তার অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য ভবিষ্যতের পড়াশোনায়ও সে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়।

নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিংকু রঞ্জন দাশ এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রুপালী রানী দাশ দম্পতির প্রথম কন্যা সপ্তদ্বীপা দাশ। তার বাবা, মা, জানান, সপ্তদ্বীপা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী। তার এই ফলাফল পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। ভবিষ্যতেও সে যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

জুড়ীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘির এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর এমন ফলাফল শুধু তার পরিবার বা বিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো জুড়ী উপজেলার জন্যই গর্বের বিষয়। তার সাফল্য এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

জুড়ীর গর্ব সপ্তদ্বীপা দাশ দীঘির সামনে এখন নতুন পথচলা। মেধা, মনন ও মানবিকতার সমন্বয়ে তার স্বপ্নের চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় যেন বাস্তবে রূপ নেয়—এটাই এখন পরিবার, শিক্ষক ও জুড়ীবাসীর প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..