• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন :
বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের সহায়তায় ১৮ সদস্যের প্রত্যাবাসন, দেওয়া হলো নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার, চালক আটক গায়ের রঙ নয়, যোগ্যতাই মানুষের আসল পরিচয়—ফেসবুকে আলোচনায় এক তরুণী সাংবাদিক দিনাজপুরে বিজিবির পৃথক অভিযানে যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার বুড়িচং পৌরসভাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করা হবে: মেয়ার প্রার্থী কামাল হোসেন পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ এ-র গুলীতে নিহত ১ জন,আহত ২ জন। সনাতন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, জবি শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জুবায়েদের বিরুদ্ধে বুড়িচং প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি, প্রিয় শিক্ষক আবু শামাকে রাজকীয় বিদায় জানালেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি / ১৪ দেখেছেন
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

একজন শিক্ষক কখনো শুধুই পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না। তিনি গড়ে তোলেন মানুষের চরিত্র, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ। আর সেই শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘ ৩৬ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের পর অবসরে গেলেন হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মো. আবু শামা। কিন্তু বিদায়ের এই মুহূর্ত ছিল না শুধুই আনুষ্ঠানিকতা; ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির এক মিলনমেলা।

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা স্মরণ করেন আবু শামা স্যারের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি এবং শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা।

প্রধান অতিথি ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন—একজন শিক্ষক কখনোই অবসরে যান না। তিনি তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। আবু শামা স্যার আমাদের শুধু বইয়ের শিক্ষা দেননি, শিখিয়েছেন মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। প্রিয় শিক্ষককে ছাদখোলা একটি গাড়িতে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় জানান তাঁরই গড়ে তোলা শিক্ষার্থীরা। এরপর শতাধিক মোটরসাইকেলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাঁকে পৌঁছে দেয় নিজ বাসভবনে। পুরো পথজুড়ে ছিল ভালোবাসা, সম্মান আর অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য। অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর চোখে দেখা যায় অশ্রু। কেউ স্মরণ করেন শ্রেণিকক্ষের দিনগুলো, কেউবা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেন— জীবনের পথে চলতে আবু শামা স্যারের শিক্ষাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

 

শিক্ষকের ছেলে রানা তুহিন বলেন—বাবা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ৩৬ বছর শিক্ষকতা করেছেন। আজ তিনি অবসরে গেলেও তাঁর আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

শিক্ষক আবু শামার এই বিদায় সংবর্ধনা যেন প্রমাণ করে— একজন প্রকৃত শিক্ষক কখনো হারিয়ে যান না। তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্যে, স্মৃতিতে এবং ভালোবাসায়। দীঘিনালার মাটিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়ে থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অটুট বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..