• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

বেরিবাঁধ ফুটো করে পাইপে বালু ভরাট: যেকোনো সময় ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সানি তপদার / ৫৬ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

চাঁদপুর মতলব উত্তর মোহনপুর ইউনিয়নে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণাধীন বেরিবাঁধের বুক চিরে দেদারসে ঢুকানো হচ্ছে লোহার পাইপ। আর এই পাইপের মাধ্যমে ড্রেজার দিয়ে অবাধে চলছে বালু ভরাটের মহোৎসব।

বাঁধের মতো অতি সংবেদনশীল ও সুরক্ষামূলক কাঠামোর ভেতর দিয়ে এভাবে পাইপলাইন নেওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আইন অমান্য করে চলছে পাইপ স্থাপন

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও বালু ব্যবসায়ীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো তোয়াক্কা না করেই বেরিবাঁধের তলদেশ বা মাঝখান দিয়ে মোটা লোহার পাইপ ঢুকিয়ে দিয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন করে দূর-দূরান্তের নিচু জমি বা ভিটা ভরাট করার জন্য এই আত্মঘাতী পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।

বাঁধের মাটি খুঁড়ে বা ফুটো করে পাইপ বসানোর ফলে বাঁধের মূল কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ঝুঁকির মুখে জনপদ: যেকোনো সময় মহাবিপর্যয় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির চাপ বাড়লে বা সামান্য জলোচ্ছ্বাস হলেই এই পাইপের চারপাশ দিয়ে পানি চুইয়ে (Seepage) বাঁধ ধসে যাওয়ার শতভাগ আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ:
কাঠামোগত ক্ষতি: পাইপ ঢোকানোর কারণে বাঁধের ভেতরের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে গেছে।

বাঁধ ভাঙনের ভয়: যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে, যার ফলে ভেসে যাবে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের।
প্রশাসনের নীরবতা: দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ব্যবসায়ীরা তাদের লাভের জন্য আমাদের জীবন মরণ নিয়ে খেলছে। এই বাঁধটা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এভাবে পাইপ ঢোকানোর পর বন্যা আইলে বাঁধ এক মিনিটও টিকব না। আমরা আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারি না।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
পরিবেশবিদ ও প্রকৌশলীদের মতে, বেরিবাঁধের ভেতর দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের পাইপলাইন নেওয়া বৈধ নয়। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সামান্য একটি পাইপের ফুটো পুরো একটি অঞ্চলের সুরক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল অতি দ্রুত এই অবৈধ পাইপলাইনগুলো অপসারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন জেগে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..