মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সমাই বাজারে আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন পর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও পেট্রোল পাম্পের মূল লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ইউনিক ট্রেডার্সের মালিক ফখরুল ইসলাম।
তিনি দাবি করেছেন, তার দোকানে থাকা প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামালের মধ্যে অধিকাংশই নেই। একই সঙ্গে ক্যাশবক্সে রাখা ৬২ হাজার টাকা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও প্রায় ৮ লাখ টাকা দিয়ে কেনা পেট্রোল পাম্প পরিচালনার লাইসেন্সও খুঁজে পাননি।
সোমবার (১৩ জুলাই) আদালতের নির্দেশে দোকানের চাবি বুঝে পাওয়ার পর দোকান খুলে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ফখরুল ইসলাম। তিনি জুড়ী উপজেলার জালালপুর গ্রামের রকিব আলীর ছেলে।
ফখরুল ইসলাম বলেন, গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমার দোকানে তেল আসে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে চলে যাই। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ৭৫০ লিটার পেট্রোল ও ৬০০ লিটার ডিজেল বিক্রি হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু রাত ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসে দোকানের তালা ভেঙে ৭৫০ লিটার পেট্রোল ও ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমাকে মামলায় জড়িয়ে ৩৬ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বহুবার দোকানের চাবি চাইলেও আমাকে দেওয়া হয়নি। বাজার কমিটির সভাপতি, আমার স্বজনরা এমনকি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাও চাবি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালতের নির্দেশে ১৩ জুলাই দোকানের চাবি পাই।
দোকান খুলে তিনি দেখতে পান, দোকানে থাকা দামি লুব্রিকেন্ট, নগদ ৬২ হাজার টাকা, বিভিন্ন জরুরি কাগজপত্র, ক্রয়-বিক্রির মেমো এবং পেট্রোল পাম্প পরিচালনার মূল লাইসেন্স নেই। তিনি দাবি করেন, আমি আব্দুল হক মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা দিয়ে এই লাইসেন্স কিনেছিলাম। এখন সেটিও খুঁজে পাচ্ছি না। দোকানের শুধু ট্রেড লাইসেন্সটি রয়েছে, কিন্তু মূল লাইসেন্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নেই। আমার প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামালের মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ টাকার মতো মালামাল পেয়েছি। আমি যে হয়রানির শিকার হয়েছি, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। যদি আমার কোনো ভুল থেকে থাকে, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু আমার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
সমাই বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নয়ন বলেন, “ফখরুল ইসলাম মামলায় কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি দোকানের চাবি চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশে চাবি পাওয়ার পর দোকান খুলে তার দাবি অনুযায়ী প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামালের বিপরীতে মাত্র আড়াই লাখ টাকার মালামাল পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬২ হাজার টাকা নগদ অর্থ, বিভিন্ন কাগজপত্র এবং পেট্রোল পাম্পের মূল লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি। যদি তার অভিযোগের সঙ্গে কাগজপত্র ও প্রমাণের মিল পাওয়া যায়, তাহলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ বলেন, “আদালতের নির্দেশে চাবি পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দোকান খোলা হয়। ফখরুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার মালামাল, ৬২ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং পেট্রোল পাম্পের মূল লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন চাবি না দেওয়ার সুযোগে দোকানের মালামাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “ফখরুল ইসলাম ও তার স্বজনরা আমার কাছে দোকানের চাবি চেয়েছিলেন। কিন্তু বাজার কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে চাবি হস্তান্তর করা সমীচীন হবে না বলে আমি মনে করেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া এককভাবে চাবি দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমি চাবি দিইনি। পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে।