• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

“স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত থামবে না আদিবাসী লেখকদের কলম” — রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী কবি-লেখক সম্মিলনে বক্তারা

পপেন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি: / ১২৪ দেখেছেন
আপলোড : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

রাষ্ট্র আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আদিবাসী লেখকদের কলম থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত “বাংলাদেশ আদিবাসী কবি, লেখক সম্মিলন ও সাহিত্য উৎসব-২০২৬”-এ তাঁরা এ কথা বলেন।

“সাহিত্য হোক শিকড়ের ভাষা, সংস্কৃতি হোক আমাদের আত্মপরিচয় ও অস্তিত্ব” — প্রতিপাদ্যে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ আদিবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক ঐক্য পরিষদ।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কবি, লেখক ও গবেষক সনাতন হামোম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও কবি শিশির চাকমা এবং বিরিশিরি আদিবাসী কালচারাল একাডেমি, নেত্রকোনার পরিচালক পরাগ রিছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় আদিবাসী কালচারাল একাডেমি, রাজশাহীর পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব শ্রী প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, লেখক ও ভাষা গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, শোয়েন নেডী, মেজর (অব.) ড. অজয় প্রকাশ চাকমা, প্রফেসর মধুমঙ্গল চাকমা, কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা, কবি ও লেখক হাফিজ রশিদ খান, আনন্দ জ্যোতি চাকমা ও আলম সাইফুল।

বিজ্ঞান্তর তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইণ্টুমনি তালুকদার। খাগড়াছড়ি থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক আর্য্যমিত্র চাকমা, লেখক ও উন্নয়নকর্মী জ্ঞানদর্শী চাকমা, সাংবাদিক ও লেখক পপেন ত্রিপুরা, লেখক কেবি দেবাশীষ চাকমা, বিপুল ত্রিপুরা প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংবিধানে সব ধর্মের সমান মর্যাদার কথা উল্লেখ থাকলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আদিবাসীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। তাঁরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আদিবাসীদের মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্যে আকাল দেখা দিয়েছে এবং আদিবাসী ভাষাসমূহের অবস্থা সংকটজনক। আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সংরক্ষণ ও চর্চায় যথাযথ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আদিবাসী লেখকদের কলম থামবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম (ক অঞ্চল), রেগা প্রকাশনী, থকবিরিম, কথা এবং আদিবাসী পাহাড়ী বৈদ্য শাস্ত্রীয় বহুমুখী কল্যাণ সমিতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..